অধ্যায় সাতাত্তর: ক্ষমা
যূত鼎真人 ঠাণ্ডা গলায় বললেন, ‘‘রক্তের ঋণ রক্তেই শোধ হবে, দশগুণ ফেরত দেবে।’’
য়াং জিয়ানের বুক কেঁপে উঠল, তার শরীরে এক শীতল স্রোত বয়ে গেল, অজান্তেই সে কাশতে শুরু করল, ‘‘কাশ কাশ, কাশ কাশ কাশ।’’
যূত鼎真人 অর্ধেক হাসিমুখে বললেন, ‘‘কী হলো, ভয় পেয়ে গেলে?’’
য়াং জিয়ান মাথা নাড়ল, ‘‘গুরুজী, শিষ্যের প্রতি আপনার ঋণ পাহাড়সম, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আপনি সবসময় শিষ্যকে বিশ্বাস করেছেন, কখনো কোনো সন্দেহ করেননি। আপনি শিষ্যকে ভরসা আর নির্ভরতা দিয়েছেন।’’
‘‘য়াং জিয়ান, আমি নিজের চোখেই সব কিছু স্পষ্ট দেখতে পারি, সেসব ভণ্ড সাধুদের কথায় কেনই বা সন্দেহ পুষবো? তুমি আমার শিষ্য, সত্যিই যদি অপরাধীও হও, তাদের কিছু বলার অধিকার নেই।’’
‘‘জি গুরুজী।’’
য়াং জিয়ান যূত鼎真人ের পোশাকের কোণা ধরে হাল্কা গলায় ডাকল, ‘‘গুরুজী।’’
যূত鼎真人 দৃষ্টি তুললেন, ‘‘কী হলো, আবার মাথা ধরেছে?’’
য়াং জিয়ান মাথা নাড়ল, ‘‘না, বালিশটা আরামদায়ক নয়।’’
যূত鼎真人 হাত তুলে ইয়াং জিয়ানের কপালে টোকা দিলেন, ‘‘এবার কোথায় ব্যথা করছে?’’
য়াং জিয়ান কপাল ধরে বলল, ‘‘গুরুজী, আর মারবেন না, পুরোপুরি গাধা হয়ে যাচ্ছি।’’
যূত鼎真人 বিছানার মাথায় সরে এলেন, ‘‘এসো।’’
‘‘জি, ধন্যবাদ গুরুজী।’’
য়াং জিয়ান যূত鼎真人ের ঊরুতে মাথা রাখল, ‘‘গুরুজী, শিষ্যর একটি অনুরোধ আছে।’’
যূত鼎真人 বললেন, ‘‘কী অনুরোধ?’’
য়াং জিয়ান উত্তর দিল, ‘‘শিষ্য চায় তাই乙 গুরুজীর পদ্মপুকুর থেকে এক টুকরো শালুক পেতে।’’
‘‘ঠিক আছে, কালই আমি কুয়ানশান থেকে তোমার জন্য নিয়ে আসব।’’
‘‘গুরুজী, শিষ্যও আপনার সাথে যেতে চায়।’’
‘‘প্রয়োজন নেই, আমি গিয়েই ফিরে আসব।’’
‘‘গুরুজী, শিষ্য...’’ ইয়াং জিয়ান থেমে গেল।
‘‘তুমি নিশ্চিন্তে শরীরটা ভালো করো, বাকি সব নিয়ে ভাবতে হবে না।’’
‘‘জি, গুরুজী।’’
যূত鼎真人 ইয়াং জিয়ানের কানের পাশের চুল সরিয়ে দিয়ে বললেন, ‘‘ছোটো শিয়াল, মনে আছে তুমি প্রথমবার যূত泉 পর্বতে এলে? তখন তুমি ছিলে একদম শিশু, রোজ অনুশীলনে ক্লান্ত হয়ে পড়লে আমার ঊরুতেই মাথা রাখত।’’
য়াং জিয়ান এক প্রশান্ত হাসি দিল, ‘‘গুরুজী, শুধু আপনার পাশে থাকলেই সবচেয়ে নিরাপদ লাগে। এখন সবকিছু শান্ত, শিষ্যের কাছে আপনি আছেন, দাদা আছেন, আর ষিংয়্যারও আছে, আমি সম্পূর্ণ তৃপ্ত।’’
যূত鼎真人 স্নেহভরে ইয়াং জিয়ানের কপাল ছুঁয়ে বললেন, ‘‘শুধু ছোটো শিয়ালটা সুখী থাকলেই আমি খুশি, দুঃখের দিন কেটেছে, আর কোনো দুশ্চিন্তা নেই।’’
‘‘গুরুজী, আপনার উপস্থিতি সত্যিই আশীর্বাদ।’’
য়াং জিয়ান চোখ বুজে ধীরে ধীরে ঘুমিয়ে পড়ল।
ইয়াং জিয়াও বাইরে থেকে ফিরে হাতে আনা পিঠা টেবিলে রাখল, ‘‘একদম অলস, এখনও ঘুমাচ্ছে।’’
যূত鼎真人 দৃষ্টি তুললেন, ‘‘আরও কিছুক্ষণ ঘুমাক, এতে শক্তি পাবে। তার অবরুদ্ধ স্নায়ু খুলে গেছে, এখন একটু সুস্থ হলেই পুরোপুরি সেরে উঠবে।’’
ইয়াং জিয়াও বিছানার পাশে বসে বলল, ‘‘আজ একিউপাংচারে ও অনেক শক্তি খরচ করেছে, তাই ঘুমাচ্ছে। শুধু গুরুজীই কষ্ট পাচ্ছেন।’’
যূত鼎真人 হেসে বললেন, ‘‘কিছু না। আমার একটাই শিষ্য, আদর করবোই।’’
ইয়াং জিয়াও ইয়াং জিয়ানের গাল টিপে বলল, ‘‘ছোটোটা ঘুমন্ত অবস্থায়ই সবচেয়ে শান্ত।’’
ইয়াং জিয়ান মনে মনে চোখ ঘুরিয়ে নিল, ‘‘গুরুজী।’’
‘‘তুমি জেগে গেছো, এসো।’’
যূত鼎真人 ইয়াং জিয়ানকে ধরে বসিয়ে দিলেন।
‘‘গুরুজী।’’
ইয়াং জিয়ান যূত鼎真人ের কানে কানে কিছুবার বলল।
‘‘ঠিক আছে।’’
যূত鼎真人 পরে চলে গেলেন।
ইয়াং জিয়াও ইয়াং জিয়ানকে পর্যবেক্ষণ করে বলল, ‘‘ইয়াং জিয়ান, তোমার চোখ এত ঘুরছে, আবার কী পরিকল্পনা করছো?’’
ইয়াং জিয়ান বলল, ‘‘কিছু না, শুধু ঘুমিয়ে ক্লান্ত লাগছে।’’
‘‘আহা অলস ছেলে, ঘুমিয়েও ক্লান্ত?’’
ইয়াং জিয়ান ভক্তিভরে বলল, ‘‘দাদা, তোমার আজকের পোশাকটা খুব সুন্দর, তোমার বীরত্ব ফুটে উঠেছে।’’
ইয়াং জিয়াও হেসে বলল, ‘‘দ্বিতীয় মহাশয় নিশ্চয়ই কিছু চাইছো?’’
‘‘না তো, আমার কী চাওয়ার আছে!’’
‘‘ওহ, সাহায্য দরকার না হলে থাক, আমি গুরুজীকে রান্নায় সাহায্য করি।’’
ইয়াং জিয়ান ইয়াং জিয়াওয়ের হাত ধরে বলল, ‘‘দাদা, দাদা, এত তাড়াহুড়ো কোরো না! আসলে ছোটো ভাইয়ের একটা ছোটো দরকার আছে।’’
ইয়াং জিয়াও বলল, ‘‘বলো।’’
ইয়াং জিয়ান ‘জুঘুন鼎’ বের করল, ‘‘এটাই, দাদা, এটা দাওঝুর কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করছি।’’
ইয়াং জিয়াও জুঘুন鼎 নিয়ে বলল, ‘‘ঠিক আছে, যাচ্ছি।’’
‘‘দাদা।’’
ইয়াং জিয়াও ফিরে চাইল, ‘‘আবার কী হলো?’’
ইয়াং জিয়ান দাদাকে পাশে বসাল, ‘‘দাদা, তুমি কাল যাবে, আজ একটু কথা বলি।’’
‘‘ঠিক আছে, দ্বিতীয় মহাশয় যা বলো, কাল যাব।’’
‘‘দাদা, তুমি তো জানো আমার আর নেজার ব্যাপার?’’
‘‘হ্যাঁ, বলো কী চাও?’’
ইয়াং জিয়ানের চোখে এক অনুরোধ, ‘‘তাহলে দাদা, তুমি কি নেজাকে ছেড়ে দিতে পারো?’’
‘‘সে যা করেছে তোমার সাথে।’’
ইয়াং জিয়ান হেসে বলল, ‘‘কিছু যায় আসে না। বন্ধু হতে না পারলেও শত্রু হওয়ার দরকার নেই।’’
‘‘তুমি সত্যিই রাগ করো না?’’
ইয়াং জিয়ান মাথা নাড়ল, ‘‘রাগের কিছু নেই, আমি শুধু চাই সবাই মিলে সহজ, শান্ত জীবন কাটাতে, বাকিটা গুরুত্ব নেই। দাদা, যতটা সম্ভব ক্ষমা করা উচিত, এবার ছেড়ে দাও, ধরো এটা তোমার ছোটো ভাইয়ের ভুলের জন্য আরেকবার ক্ষমা করা।’’
ইয়াং জিয়াও বলল, ‘‘ঠিক আছে, তোমার অনুরোধ রাখলাম। জীবন দিতে পারি, তবে শিক্ষা দিতেই হবে। এটাই আমার শেষ ছাড়, এরপরও যদি সীমা না বোঝে, তাহলে আমাকে দোষ দিও না।’’
ইয়াং জিয়ান মাথা নাড়ল, ‘‘জি, ধন্যবাদ দাদা।’’
ইয়াং জিয়াও ইয়াং জিয়ানকে ভালোভাবে দেখল, ‘‘তুমি গুরুজীকে পাঠিয়েছো শুধু এই জন্য তো নয়?’’
‘‘তোমার জন্য একটা বড় উপহার আছে।’’
ইয়াং জিয়াও হেসে বলল, ‘‘আজ কোন বিশেষ দিন যে উপহার দেবে? দরকার নেই, নিজেই রেখে দাও।’’
‘‘না, দাদা, তোমাকে নিতেই হবে।’’
‘‘উপহার তো এভাবে দেওয়া হয় না!’’
‘‘আমি এভাবেই দিচ্ছি, তোমাকে নিতেই হবে।’’
ইয়াং জিয়াও ইয়াং জিয়ানের কাঁধে চাপড় দিল, ‘‘ঠিক আছে, নিচ্ছি।’’
‘‘এই উপহার তোমার খুব পছন্দ হবে।’’
‘‘কী উপহার?’’
‘‘শুয়িয়াং পর্বতের চিহ্নিত গুহায় তিন হাজার精兵 আছে।’’
ইয়াং জিয়ান কালো চৌকোণো এক ‘নির্দেশ’ এগিয়ে দিল, ‘‘ছোটো উপহার, আপনার জন্য শ্রদ্ধা প্রকাশ, দয়া করে গ্রহণ করুন।’’
ইয়াং জিয়াও নির্দেশ নিল, ‘‘এটা আমাকে কেন দিচ্ছ?’’
‘‘দাদা, এই তিন হাজার সৈন্য কম হলেও, তারা অসীম সাহসী, ভবিষ্যতে তোমার কাজে লাগবে।’’
‘‘ঠিক আছে, ওরা আমার সাথেই থাকবে।’’
ইয়াং জিয়ান করজোড়ে বলল, ‘‘ছোটো ভাইয়ের পক্ষ থেকে দাদার মঙ্গল কামনা, কর্মজীবনে উন্নতি হোক।’’
‘‘তুমি জেনে গেছো।’’
ইয়াং জিয়ান চোখ উল্টে বলল, ‘‘প্রতারক।’’
ইয়াং জিয়াও বলল, ‘‘ছোটো জিয়ান, ইচ্ছা করে কিছু লুকোইনি।’’
ইয়াং জিয়ান মুখ ফিরিয়ে নিল, ‘‘তবুও তো লুকিয়েছো।’’
‘‘কয়েকদিন পরেই জানাতাম।’’
ইয়াং জিয়ান হাঁটু জড়িয়ে মাথা নামিয়ে বসল।
ইয়াং জিয়াও পাশে এসে বলল, ‘‘ছোটো জিয়ান, শোনো।’’
ইয়াং জিয়ান বিরক্ত হয়ে বলল, ‘‘আর কী বলবে? শুনতে চাই না।’’
ইয়াং জিয়াও হাসিমুখে বলল, ‘‘ভুল হয়েছে, লুকানো উচিত হয়নি।’’
ইয়াং জিয়ান বলল, ‘‘শেষ?’’
ইয়াং জিয়াও ইয়াং জিয়ানের পড়ে থাকা চুলে হাত বুলিয়ে বলল, ‘‘ছোটো জিয়ান, ফেরার পথে তোমার জন্য দুটি প্যাকেট কাস্তান পিঠা এনেছি, টেবিলে আছে। এতক্ষণ ঘুমিয়েছো, নিশ্চয়ই খিদে পেয়েছে, খেয়ে নাও।’’
ইয়াং জিয়ান পাশের মানুষটির দিকে চোরা দৃষ্টিতে চাইল, ‘‘এই সামান্যতেই আমাকে ভুলিয়ে দিতে চাও, মুখ বন্ধ রাখতে চাও?’’