রাজা, মহারাজা, সেনাপতি, আর দরবারীরা—তাদের কি জন্মগত কোনো বিশেষত্ব আছে?
মানুষ যখন জীবনের পথে হাঁটে, জন্ম নেওয়া সহজ, বেঁচে থাকাও সহজ, কিন্তু জীবনযাপনটা ঠিক সহজ নয়।
যদি জীবন সত্যিই নানা ধরনের কাপের মতো হত, তাহলে সেইসব কাপের মধ্যে দিয়ে জীবন সাজানো যেত—শৈশবের দুধের বোতল, যুবক বয়সের কোমল পানীয়ের বোতল, কর্মজীবনের মদের বোতল, সাফল্যের শিখরে পৌঁছালে চায়ের কাপ, আর শেষে বৃদ্ধ বয়সে স্যালাইনের বোতল।
এখন, ঝাং হে কর্মজীবনে প্রবেশ করেছে, কিন্তু এখনো মদের বোতলটা হাতে নেওয়ার সুযোগ হয়নি, ততদিনে তার চাকরি শেষ হয়ে যেতে চলেছে।
ঝাং হে নামটা মোটামুটি চলনসই, তেমন কোনো সাহসী বা দম্ভ প্রকাশ করে না, কিন্তু অন্তত একটা প্রাণবন্ততার অনুভূতি দেয়।
‘ঝাং’ চীনের তৃতীয় বৃহৎ পরিবার নাম, আর ‘হে’ মানে বিখ্যাত। কিন্তু ঝাং হে বিখ্যাত নয়, সে কোনো বড় লোকও নয়, সদ্য গ্র্যাজুয়েটদের মতো, স্কুলের বাইরে এসে সমাজ আর ভবিষ্যত নিয়ে দিশাহীন, সেই দিশাহীনতা একত্রিত হয়ে একটা বিশাল চাকরি খোঁজার ঢেউ হয়ে ওঠে। সে-ও সেই ঢেউয়ের মধ্যে, পশ্চিম চীনের এক ব্যস্ত শহরে এসে, এলোমেলোভাবে একটা স্বাস্থ্যপণ্য কোম্পানিতে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেছিল।
স্বাস্থ্যপণ্য কোম্পানি—এ যুগে সবাই বোঝে, টেলিভিশন খুললেই ছোট চ্যানেলগুলো আধঘণ্টা বিজ্ঞাপন দিয়ে খড়কুটোকে সোনার বার বলে!
“রুপার হরিণের সিরাপ, ৩০ দিনে চমৎকার ত্বক, ৫০ দিনে ১০ কেজি ওজন কমান, ৯০ দিনে দশ বছর ছোট হয়ে যান...”
প্রতিবার কোম্পানির বিজ্ঞাপন দেখলে ঝাং হে মনে করত, কোম্পানির প্রচার কৌশলে বড় ভুল আছে। তাদের পণ্য বিদেশে পাঠানো উচিত, বিশেষ করে আমেরিকার কংগ্রেসে, বিজ্ঞাপনে লেখা যেতে পারে—“২৫০ দিনে মানবজাতিকে মুক্তি, পৃথিবীকে একত্রিত করুন...”
তবে, এসব চিন্তা খুব সাহসী, যুক্তিসম্মত হলেও, জীবন কি শুধু অনুমানেই চলে?
বাস্তবতা হলো, ঝাং হে এখন অফিস ডেস্কে বসে, সামনে থাকা টেবিলের দিকে তাকিয়ে নিস্তব্ধ।
এটা মাসিক বিক্রয় রিপোর্ট,